এইচ এম জালাল উদ্দীন কাউছার, উখিয়া:
উখিয়ার কুতুপালং ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডব্লিউএফপি (WFP) বিভিন্ন ধরনের মার্কেট লিংকেজ বা বাজারসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এর আগে WFP’র অর্থায়নে সুশীলন এনজিও শুধুমাত্র স্থানীয় বাংলাদেশি কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি তাজা শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যপণ্য (মাছ ও মাংস) কিনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের খাদ্য সহায়তা আউটলেটগুলোতে সরবরাহ করত।
এপ্রিল ২০২৬ সাল থেকে WFP রোহিঙ্গা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের (Small Scale Traders-SST) জন্য বিশেষ মার্কেট পাইলট প্রোগ্রাম চালু করেছে। এর আওতায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পরীক্ষামূলকভাবে ক্যাম্প-৪-এর জি ব্লকে ১২টির বেশি রোহিঙ্গা দোকানদারকে ভেন্ডর হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বিশেষ Fresh Food Corner (FFC) স্থাপন করা হয়েছে।
এ কার্যক্রমের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা সরাসরি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাছে প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এসব দোকান থেকে প্রত্যেক রোহিঙ্গা প্রতি মাসে ৩ ডলারের ই-ভাউচারের মাধ্যমে মাছ, মাংস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় তরিতরকারি কিনতে পারবেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে পিছিয়ে পড়া স্থানীয় জনগোষ্ঠী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বেকার হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে তাদের সঙ্গে অবৈধ ক্যাশ লেনদেনের মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা হচ্ছে, যা তাদের প্রত্যাবাসনে নিরুৎসাহিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি ভবিষ্যতে বাঙালি ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করতে পারে, যা কক্সবাজারসহ দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এ বিষয়ে অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল হোছাইন বলেন, “আমরা রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দিয়েছি। মুসলিম জাতি হিসেবে আমরা তাদের ভালোবাসি এবং চাই তারা দ্রুত নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাক। তারা উদ্যোক্তা হবে মিয়ানমারে, বাংলাদেশে নয়।”
তিনি আরও বলেন, “যতদিন পর্যন্ত নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত না হচ্ছে, ততদিন সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাধ যাতায়াত বন্ধে ক্যাম্প প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”
তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “প্রত্যাবাসন সফল না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পের বাইরে তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।”
